যাত্রা শুরু
শনিবার সকাল সাতটায় রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে উদ্বোধনী সমাবেশ হয়। সকাল আটটার দিকে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের গাড়িবহর রংপুর অভিমুখে লংমার্চ শুরু করে। চট্টগ্রাম অভিমুখী লংমার্চের পর এটি জোটের দ্বিতীয় বড় কর্মসূচি।
প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ, খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ জোটের শীর্ষ নেতারা।
পথসভা ও রুট
বহর তেজগাঁও, মহাখালী, বনানী, খিলক্ষেত, উত্তরা ও টঙ্গী হয়ে গাজীপুরের ভোগড়া বাইপাসে পথসভা করে। এরপর টাঙ্গাইলের নগর জলফৈ, সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল মোড়, বগুড়ার মাটিডালি বিমান মোড় ও গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে পথসভার কর্মসূচি। সমাপনী সমাবেশ রংপুর জিলা স্কুল মাঠে। পথে অনানুষ্ঠানিক গণজমায়েতও হয়। সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুলে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ভিড় দেখা যায়।
আট দফা দাবি
জোট যে আট দফা নিয়ে রাজপথে নেমেছে— - গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন - জুলাই গণহত্যার বিচার - বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন - নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমানো - দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ - আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন - সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ - তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন
নেতারা যা বলেন
গাজীপুরের পথসভায় ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এই লংমার্চ দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করার জন্য এবং আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে। তাঁরা দলীয় দাবি নিয়ে আন্দোলনে নামেননি—গণভোটের গণরায় নিশ্চিতের দাবিতে নেমেছেন।
হেফাজত থেকে পলাতক আসামি সুলতান, দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগএলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বলেন, তাঁরা সরকারের বিরুদ্ধে বা দেশের বিরুদ্ধে নন; সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতিমুক্ত দেশ চান। সংস্কার করতে হবে বলেও তিনি তাগিদ দেন।
খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক বলেন, উত্তর জনপদে অধিকার আদায়ে লংমার্চ যাচ্ছে। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ছাড়া উপায় নেই বলে তাঁর মন্তব্য। তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে টালবাহানা বরদাশত করা হবে না বলেও তিনি সতর্ক করেন।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, গণরায় না মেনে সরকার প্রতারণা করেছে বলে জোট মনে করে। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকারকে বাধ্য করার কথা তিনি তোলেন।
সমাপনী
রংপুর জিলা স্কুল মাঠে সমাপনী সমাবেশের মঞ্চ প্রস্তুত করা হয়। আয়োজকেরা আট জেলার নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সমাগম প্রত্যাশা করেন। শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির আহ্বান জানানো হয়।
অর্থনৈতিক ধাক্কায় দারিদ্র্যের ঝুঁকিতে বাংলাদেশের ৬.২ কোটি মানুষডেস্কের অবস্থান
রিভার্স নিউজ কোনো জোট বা সরকারের পক্ষে রায় দিচ্ছে না। এটি সমাবেশ, পথসভা ও ঘোষিত দাবির প্রতিবেদন। আন্দোলনের দাবি ও সরকারের কাজ—দুটোই জনগণের চোখে যাচাইয়ের বিষয়। তদন্ত বা আইনশৃঙ্খলার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের।
রিভার্স নিউজ ডেস্ক · ঢাকা-রংপুর · ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬




