নেত্রকোনা দুর্গাপুর প্রতিনিধি: বিশেষ প্রতিবেদন। রাজনীতিতে সময় ও বাস্তবতার সমীকরণ কীভাবে বদলে যায়, তার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত নেত্রকোনা-১ (দুর্গাপুর-কলমাকান্দা) আসন। একসময় এই আসনে বিরোধী শিবিরের পরিচিত আইনজীবী ও নেতা ছিলেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। সে সময় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের প্রকাশ্য কটাক্ষও তাঁকে সহ্য করতে হয়েছিল—“ব্যারিস্টার কায়সার কামাল কখনো নেতা হতে পারবে না।”

তবে সময়ের পালাবদলে সেই কায়সার কামাল আজ কেবল নিজের যোগ্যতা ও জনপ্রিয়তার প্রমাণই দেননি; বরং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচিত সংসদ সদস্য, সাবেক ভূমি প্রতিমন্ত্রী, জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার এবং পরিস্থিতির প্রয়োজনে ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক দায়িত্বে আসীন হয়েছেন।

কংস নদের উত্তর পাড়ের এক ঐতিহাসিক অর্জন। এই উত্থান কেবল কায়সার কামালের ব্যক্তিগত অর্জন কিংবা দুর্গাপুর-কলমাকান্দার ভাগ্যবদল নয়। এটি কংস নদের উত্তর পাড় তথা পুরো বৃহত্তর ময়মনসিংহের উত্তরাঞ্চলের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক নজিরবিহীন ঘটনা। স্বাধীনতার পর থেকে এই জনপদে বহু শাসনামলের পরিবর্তন হয়েছে, পরিবর্তন ঘটেছে অনেক হেভিওয়েট নেতারও। কিন্তু দেশের আইন প্রণয়নের সর্বোচ্চ প্রতিষ্ঠানে ক্ষমতার এমন উচ্চমান ও সম্মান এই অঞ্চলে আর কোনো নেতা বয়ে আনতে পারেননি।

নিজের অর্থায়নে গ্রামীণ উন্নয়ন ও জনকল্যাণ। সরকারি বরাদ্দের জন্য অপেক্ষা না করে নিজ উপার্জিত অর্থ ও উদ্যোগে এলাকার অবহেলিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

সোমেশ্বরী নদীতে কাঠের সেতু: দুর্গাপুরের সোমেশ্বরী নদীর শিবগঞ্জ ঘাটে নিজ অর্থায়নে (প্রায় ১৫ লাখ ৪০ হাজার টাকা ব্যয়ে) স্থানীয় মানুষের স্বেচ্ছাশ্রমে ৭৫০ ফুট দীর্ঘ একটি কাঠের সেতু নির্মাণ করেন। পরবর্তী সময়ে এই সেতু থেকে অর্জিত অর্থের একাংশ স্থানীয় মসজিদ, মন্দির, গির্জা ও সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে অনুদান হিসেবে প্রদান করা হয়।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সেতু: বিভিন্ন দুর্গম এলাকার বিদ্যালয়গুলোর সামনে শিক্ষার্থীদের যাতায়াত সুগম করতে ব্যক্তিগত উদ্যোগে ২৪ থেকে ২৫টি ছোট ব্রিজ নির্মাণ করেছেন।

মানবিক আবাসন: কলমাকান্দায় ঝড়ে ঘর হারানো নিঃস্ব মনোয়ারা বেগম এবং ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থী সেতু মানখিনের পরিবারের জন্য নিজ খরচে স্থায়ী নতুন ঘর বানিয়ে দিয়েছেন।

সোমেশ্বরী সেতুর নিচের বেহাল সড়ক চলাচলের উপযোগী

হাসপাতালে সৌরবিদ্যুৎ: দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হওয়া বন্ধ করতে ৫ কিলোওয়াটের সোলার ইনভার্টার, লিথিয়াম ব্যাটারি ও অটোমেটিক চেঞ্জওভার ব্যবস্থা স্থাপন করেছেন।

রেল যোগাযোগ বিস্তার: জারিয়া ঝাঞ্জাইল থেকে দুর্গাপুর পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারণের কাজ ত্বরান্বিত করতে সম্ভাব্যতা যাচাই ও ভূমি অধিগ্রহণের ধারাবাহিক উদ্যোগ নিয়েছেন, যা বর্তমানে চলমান।

অহংকারহীন পরিশ্রমে মাঠ পর্যায়ের নেতৃত্ব। রাষ্ট্রের এত বড় সাংবিধানিক পদে অধিষ্ঠিত হয়েও অহংকার তাঁকে স্পর্শ করতে পারেনি। সংসদ থেকে সামান্য ছুটি পেলেই তিনি ছুটে যান দুর্গম গ্রামের মাটিতে।

তৃণমূলের সেবা: গ্রামে ফিরেই প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত সাধারণ ও পিছিয়ে পড়া মানুষদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে খোঁজখবর নেন এবং তাদের নিয়মিত আর্থিক ও সামাজিকভাবে সহযোগিতা করেন।

দলমত নির্বিশেষে সর্বজনীন ঐক্য: সংকীর্ণ রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে দলমত নির্বিশেষে সবাইকে একই ছাতার নিচে ঐক্যবদ্ধ রাখার আহ্বান জানিয়ে যাচ্ছেন।

দুর্নীতি ও বিভাজনের বিরুদ্ধে কঠোরতা: উন্নয়নকাজে কোনো ধরনের স্বজনপ্রীতি বা দুর্নীতি সহ্য করা হবে না বলে কড়া বার্তা দিয়েছেন। একইসঙ্গে দলের মধ্যে যাতে কোনো ধরনের কোন্দল বা বিভাজন না সৃষ্টি হয়, সে বিষয়ে কঠোর অবস্থান বজায় রেখেছেন।

দুর্গাপুরে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা

নতুন মানদণ্ড ও এলাকাবাসীর প্রত্যাশা। নেত্রকোনা-১ আসনে অতীতে অনেক নেতা ধারাবাহিকভাবে নির্বাচিত হয়েছেন এবং ক্ষমতা ভোগ করেছেন। কিন্তু ব্যারিস্টার কায়সার কামাল স্বল্প সময়ে, নিজের সততা, নিষ্ঠা ও ব্যক্তিগত ত্যাগ দিয়ে কাজের যে নতুন মানদণ্ড তৈরি করেছেন—তা পূর্বে কেউ করে দেখাতে পারেননি।

আজ দুর্গাপুর-কলমাকান্দার মানুষের মনে প্রশ্ন শুধু এতটুকুতেই সীমাবদ্ধ নেই যে কায়সার কামাল কত উঁচুতে পৌঁছেছেন; বরং তাঁদের বড় ভাবনা—জনপ্রতিনিধি হিসেবে তিনি যে অনন্য উচ্চতা তৈরি করে যাচ্ছেন, ভবিষ্যতে আর কেউ কি তা স্পর্শ করতে পারবে? জাতীয় সংসদের সর্বোচ্চ আসন পরিচালনা থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের ঘরের বারান্দা পর্যন্ত তাঁর এই কাজের ছাপ ইতিহাসে এক চিরস্থায়ী দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

নেত্রকোনা দুর্গাপুর প্রতিনিধি। ২ অক্টোবর ২০২৬, বিকেল ৩টা ৫৪ মিনিট।