নিজস্ব প্রতিবেদক, দুর্গাপুর | ১০ অক্টোবর ২০২৬

নেত্রকোনার দুর্গাপুরের বাকলজোড়ায় চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসার টাকায় রাতারাতি ‘আঙুল ফুলে কলাগাছ’ বনে গেছেন একই পরিবারের ৫ জন—এমন অভিযোগ উঠেছে। ৫ আগস্ট ২০২৪-এর পর থেকে তাদের এই হঠাৎ উত্থানে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

পাঁচজনের নাম ও এলাকাবাসীর ভাষ্য

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত শহিদুল ইসলাম, শফি কামাল, কবির মুন্সি, আতিক রুবেল ও জামাল মিয়া বাকলজোড়া ইউনিয়নের আমুড়া (বাগবাড়ি) গ্রামের বাসিন্দা। এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে কুমুদগঞ্জ বাজার, গরুর মহাল এবং বিভিন্ন দায়-দরবার থেকে চাঁদা আদায় ও চোরাকারবারির মাধ্যমে তারা লাখ লাখ টাকার পাহাড় গড়েছেন। আওয়ামী লীগের হয়ে সবরকম অনৈতিক সুবিধা কাজে লাগিয়ে কোনো বৈধ আয় ছাড়াই তাদের এই উত্থানে সাধারণ ব্যবসায়ীরা রীতিমতো অতিষ্ঠ বলে অভিযোগ।

দুর্গাপুরের প্রবেশদ্বারে ময়লা অপসারণ করে বৃক্ষরোপণ

নেপথ্যে সাত্তার মাস্টারের নাম

এলাকাবাসীর ধারণা, এই ৫ জনের নেপথ্য কারিগর হিসেবে কাজ করছেন তাদেরই চাচা ও বাকলজোড়া ইউনিয়ন সভাপতি সাত্তার মাস্টার। তবে ৫ আগস্টের পর পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে গা বাঁচাতে তিনি বেশ সতর্ক বলে স্থানীয়রা জানান। স্থানীয়দের দাবি, ৫ আগস্টের পর থেকে তিনি নিজের পকেটের টাকা দিয়ে একটি সিগারেটও কিনে খাননি।

বিকাশে ৫০ হাজার টাকা

এরই মধ্যে এলাকায় একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনার কথা শোনা যাচ্ছে। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, গত পরশু সাত্তার মাস্টারের ‘দুর্বলতা’ বা গোপন তথ্য ফাঁস করে দেওয়ার কথা বলে মোবাইলে অজ্ঞাত কে বা কারা বিকাশের মাধ্যমে ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ। তবে এই টাকা কে কাকে দিয়েছে বা কারা নিয়েছে, তা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক ধোঁয়াশা ও গুঞ্জন সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়ে থানায় মামলা বা জিডির তথ্য এই প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা যায়নি।

এলাকায় বর্তমানে এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। এই টাকার উৎস তদন্তসহ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা যাতে খতিয়ে দেখে, সেই জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।

ব্রেকিং

নিজস্ব প্রতিবেদক, দুর্গাপুর। ১০ অক্টোবর ২০২৬, সন্ধ্যা ৫টা ৫২ মিনিট।