দুর্গাপুর প্রতিনিধি | ১০ অক্টোবর ২০২৬
দুর্গাপুর মূল শহরের প্রবেশদ্বার। একসময় যেখানে ছিল পৌরসভার ফেলে রাখা ময়লা-আবর্জনার বিশাল স্তূপ, আজ তা অপসারণ করে সেখানে করা হয়েছে বৃক্ষরোপণ। নেত্রকোনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ও বর্তমান সংসদের মাননীয় ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল নিজ উদ্যোগে পরিচ্ছন্নতার এই দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। কিন্তু এলাকাবাসী ও সচেতন মহলের মনে আজ একটিই প্রশ্ন—নিজ হাতে ময়লা সরিয়ে বৃক্ষরোপণের এই দৃষ্টান্ত কি শুধুই পরিবেশ রক্ষার বার্তা? নাকি এর আড়ালে লুকিয়ে আছে সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে জমে থাকা ‘আবর্জনা’ সরানোর কোনো কঠোর নির্দেশনা?
পর্যটন সম্ভাবনাময় দুর্গাপুরকে (সোমেশ্বরী নদী, মেঘালয়ের পাহাড়, বিজয়পুরের চুনামাটি) নতুন রূপে সাজাতে এমপি মহোদয় দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন। চোরাচালান থেকে শুরু করে দলীয় অপরাধের বিরুদ্ধেও তিনি জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছেন। কিন্তু তিনি সবসময় এলাকায় না থাকার সুযোগে এই ‘পরিচ্ছন্ন’ শহরের বুকেই ঘাপটি মেরে আছে নোংরা মানসিকতার এক চিহ্নিত সিন্ডিকেট—এমন অভিযোগ এলাকাবাসীর।
ভুঁইফোড় সাংবাদিক ও চাঁদাবাজির সিন্ডিকেট
অনুসন্ধানে এক চিহ্নিত সিন্ডিকেটের অপতৎপরতার অভিযোগ উঠে এসেছে। জানা গেছে, মাত্র ১০ হাজার টাকা সরকারি ফি জমা দিয়ে বিভিন্ন অনলাইন সংবাদমাধ্যমের নিবন্ধন নেওয়া হচ্ছে। এরপর সাংবাদিকতার কোনো মানদণ্ড বা ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা যাচাই ছাড়াই দেদারসে বিতরণ করা হচ্ছে আইডি কার্ড বলে এলাকাবাসী দাবি করেছেন।
নেত্রকোনা-১ থেকে জাতীয় সংসদের শীর্ষস্থানযাদের আইডি কার্ড দেওয়া হচ্ছে, তাদের প্রতিষ্ঠানের নেই কোনো সঠিক বেতন কাঠামো বা প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি—এই অভিযোগও তাদের। তাহলে এই ভুঁইফোড় সাংবাদিকদের চলার মাধ্যম কী? এলাকাবাসীর সূত্রে জানা যায়, সাংবাদিক পরিচয় ভাঙিয়ে প্রভাব বিস্তার, মানুষকে জিম্মি করা এবং চাঁদাবাজিই এদের আয়ের মূল উৎস বলে তারা অভিযোগ তুলেছেন। আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এরা স্থানীয় নেতাদের কাছে গিয়েও ‘চা-পানির’ খরচের নামে অনৈতিক সুবিধা দাবি করছে বলে অভিযোগ। আমাদের পত্রিকাতেও তথ্যপ্রমাণসহ এদের বড় ধরনের চাঁদাবাজির খবর ইতোমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে।
আস্থার অপব্যবহার ও বিতর্কিত ফোরাম
এলাকাবাসীর অভিযোগ, একটি বিতর্কিত ‘সাংবাদিক ফোরাম’-এর ব্যানারে এরা সংঘবদ্ধ। বিগত পতিত সরকারের আমলের সুবিধাবাদী চক্র এবং কলমাকান্দা ও পূর্বধলা থেকে আসা কিছু নামধারী সাংবাদিক মিলে এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্ব দিচ্ছে বলে তাদের দাবি। নেতা যখন এলাকায় আসেন, তখন এরা ভালো কাজের প্রচারক সেজে নেতার সুনজরে থাকার চেষ্টা করে। কিন্তু আড়ালে তারা এমপির বিশ্বস্ত মানুষদের কৌশলে হাতিয়ার বানিয়ে নিজেদের চাঁদাবাজির সাম্রাজ্য টিকিয়ে রাখছে—এলাকাবাসী এই অভিযোগও তুলেছেন।
জনগণের চাওয়া
ওপর দিয়ে সবকিছু পরিপাটি মনে হলেও, ভেতরে ভেতরে এই চক্রটি দুর্গাপুরের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ চরমভাবে ব্যাহত করছে বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন। জনগণের এখন একটাই চাওয়া—এমপি মহোদয় নিজ উদ্যোগে যেভাবে শহরের প্রবেশদ্বারের আবর্জনা পরিষ্কার করেছেন, ঠিক তেমনি সমাজের গভীরে লুকিয়ে থাকা এই চাঁদাবাজ ও ভুঁইফোড় সাংবাদিকদের চিহ্নিত সিন্ডিকেটকেও দ্রুত উৎখাত করবেন। পরিবেশের পাশাপাশি সমাজের ভেতরের এই অদৃশ্য আবর্জনা দূর হলেই কেবল একটি সত্যিকারের বাসযোগ্য ও দুর্নীতিমুক্ত দুর্গাপুর গড়ে ওঠা সম্ভব।
সোমেশ্বরী সেতুর নিচের বেহাল সড়ক চলাচলের উপযোগীদুর্গাপুর প্রতিনিধি। ১০ অক্টোবর ২০২৬, রাত ২টা ৬ মিনিট।

