নিজস্ব প্রতিনিধি: একদিকে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোনা-১ (দুর্গাপুর-কলমাকান্দা) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, দুর্গাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ এবং স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সামনে হাজারো তরুণ স্বেচ্ছাসেবী বিডি ক্লিনের ব্যানারে মাদকমুক্ত ও পরিচ্ছন্ন দুর্গাপুর গড়ার শপথ নিচ্ছেন। অন্যদিকে শহরের প্রাণকেন্দ্রে, মধ্যবাজারের পান মহলের ভেতরে, লাইসেন্সের অজুহাতে প্রকাশ্যে চলছে মদের দোকান।
স্থানীয়দের অভিযোগ ও অনুসন্ধানে উঠে আসা তথ্যে এই বৈপরীত্য। বিষয়টি এখন জনমনে বড় ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। এ প্রতিবেদন কোনো আদালতের রায় নয়। ভুক্তভোগীদের উদ্বেগ, প্রকাশ্য ক্ষোভ ও মাঠের ছবি তুলে ধরা হচ্ছে। সত্যতা যাচাই ও আইনি ব্যবস্থার দায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও জেলা প্রশাসনের।
জরাজীর্ণ ঘরে কার্টনভর্তি মদ
অনুসন্ধানে জানা যায়, মধ্যবাজারের পান মহলে এই দোকানের মূল নিয়ন্ত্রক সুলতান নামের এক বয়োবৃদ্ধ ব্যক্তি। দোকান চলে তাঁর ছেলে জুয়েলের নামে থাকা লাইসেন্সের দোহাই দিয়ে।
প্রশ্ন উঠেছে আইন ও নীতিমালার প্রয়োগ নিয়ে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ঘনবসতিপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকা বা বাজারের সাধারণ গলিতে জরাজীর্ণ ও ভাঙা ঘরে, কার্টনে কার্টনে ভারতীয় ও দেশি-বিদেশি মদ তুলে খুচরা বিক্রির নিয়ম থাকার কথা নয়—এই কথাই বলছেন স্থানীয়রা।
লাইসেন্সের শর্তও আলাদা। সরকারি নিয়মে একটি এলাকায় মদ বিক্রির অনুমোদনে নির্দিষ্ট সংখ্যক পারমিটধারী গ্রাহক, পরিবেশগত প্রভাব, নিরাপত্তা এবং জেলা প্রশাসনের কঠোর ছাড়পত্র লাগে। একজনের নামে লাইসেন্স থাকলেও এমন ঘিঞ্জি ও জরাজীর্ণ জায়গায় প্রকাশ্য বিক্রি কতটা আইনসম্মত, সেই প্রশ্ন এখন জোরালো।
কেলিশ হত্যাকাণ্ড নিয়ে যা বলছেন বাসিন্দারা
শুধু বিক্রি নয়। দোকানকে ঘিরে এলাকায় অপরাধ বাড়ছে—এই দাবি স্থানীয় বাসিন্দাদের।
হেফাজত থেকে পলাতক আসামি সুলতান, দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগস্থানীয় এক ক্ষুব্ধ অধিবাসী বলেন, কয়েকদিন আগে দুর্গাপুরের তেরীবাজারে গভীর রাতে, রাত তিনটার দিকে, যুব সংঘাতে কেলিশ নামের এক যুবককে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়। তাঁর বক্তব্য, ঘটনার পেছনের কারণ এই দোকানের মদ খেয়ে মাতাল অবস্থায় বিশৃঙ্খলা। তিনি দাবি করেন, এই দোকানই এখন এলাকার অপরাধের মূল উৎস।
এটা তাঁর অভিযোগ। আদালত এখনো এ কারণ সাব্যস্ত করেনি। গভীর রাত পর্যন্ত মাদকসেবীদের আনাগোনা এবং মাতলামিতে পথচারী ও ব্যবসায়ীরা আতঙ্কে থাকেন—এই অভিযোগও একই সূত্রের।
পুলিশের নীরবতা ও রাজনৈতিক যাতায়াতের অভিযোগ
সবচেয়ে বড় হতাশা আইনশৃঙ্খলার ভূমিকা নিয়ে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দুর্গাপুর থানার কিছু অফিসারকে নিয়মিত দোকানের আশপাশে ঘুরে যেতে দেখা যায়, কিন্তু ব্যবস্থা হয় না। এতে মানুষের ধারণা, পুলিশ নীরব সম্মতিতেই দোকান চলছে। নামধাম দিয়ে কেউ এ অভিযোগ আনুষ্ঠানিকভাবে থানায় দিয়েছেন কি না, সেটা আলাদা যাচাইয়ের বিষয়।
স্থানীয় সূত্র আরও বলছে, এলাকার রাজনৈতিক নেতা সম্রাট গনি নিয়মিত এই দোকানে যাতায়াত করেন ও সময় কাটান। তাঁদের ধারণা, প্রভাবশালী কোনো চক্র বা রাজনৈতিক আধিপত্যের ছায়ায় আইন ও জনদাবিকে উপেক্ষা করে দোকান টিকে আছে। এটা সূত্রের দাবি। প্রমাণিত সত্য হিসেবে এ প্রতিবেদন সেটাকে বসাতে পারছে না।
ডেপুটি স্পিকার ও প্রশাসনের দায়
নেত্রকোনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল রাষ্ট্রীয় ও সংসদীয় কাজে অধিকাংশ সময় ঢাকায় থাকেন। এলাকায় এলে জনকল্যাণের উদ্যোগ নেন, পরিস্থিতি সামলানোর চেষ্টা করেন। সচেতন মহলের প্রশ্ন: প্রশাসনের চোখের সামনে এমন একটি ক্ষতিকর কেন্দ্র এখনো তাঁর নজরে এল না কেন।
দুর্গাপুরে রাতারাতি লাখপতি ৫ জন, নেপথ্যে কে এই সাত্তার মাস্টারমাদকমুক্ত দুর্গাপুরের যে অঙ্গীকার বিডি ক্লিনের মঞ্চ থেকে এসেছে, সেটা বাস্তবে নামাতে হলে এই বিষয়ে দ্রুত আইনি পদক্ষেপ লাগবে—এটাই সাধারণ মানুষের কথা।
জনস্বার্থে দুর্গাপুর থানা পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন অবিলম্বে বিষয়টি আমলে নেবে, এই প্রত্যাশা স্থানীয় বাসিন্দাদের। উৎসে কোনো ওয়ার্ড নম্বর নেই। জায়গা মধ্যবাজারের পান মহল, দুর্গাপুর, নেত্রকোনা, ময়মনসিংহ বিভাগ।
নিজস্ব প্রতিনিধি · দুর্গাপুর · ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বিকেল ৩টা ৪ মিনিট ০০ সেকেন্ড




