রিভার্স নিউজ ডেস্ক, দুর্গাপুর: দুর্গাপুরের চণ্ডীগড় এলাকায় এক বিএনপি কর্মীর দোকান ভাঙচুর এবং ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে জোরপূর্বক সাজানো ভিডিও তৈরি ও পরবর্তীতে তা মুছে ফেলার অভিযোগ উঠেছে দুর্গাপুর সাংবাদিক ফোরামের কথিত সভাপতি ওয়ালী হাসান তালুকদার কলির বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী দোকানদার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অতিরঞ্জিত তথ্য পরিবেশন এবং জবরদস্তিমূলক সাক্ষাৎকার ধারণের অভিযোগ রয়েছে। ডিজিটাল চক্রান্ত ফাঁস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় পরবর্তীতে তা সামাজিক মাধ্যম থেকে মুছে ফেলা হয় বলে তাদের দাবি। বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতার কথা জানিয়ে ভুক্তভোগী বিএনপি দোকানদার ও সাধারণ এলাকাবাসী অভিযোগে নাম আসা ব্যক্তিদের হাত থেকে রক্ষা পেতে মাননীয় ডেপুটি স্পিকার মহোদয়ের সরাসরি হস্তক্ষেপ ও আইনি আশ্রয় প্রার্থনা করেছেন।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রের বক্তব্য অনুযায়ী, গত ২৯ সেপ্টেম্বর চণ্ডীগড় এলাকায় সামান্য কথা কাটাকাটির জের ধরে এক বিএনপি কর্মীর দোকানে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর সংবাদ প্রকাশের জন্য সংশ্লিষ্ট সাংবাদিককে ডাকা হলে তিনি বাস্তবে ঘটে যাওয়া চিত্র আড়াল করে মনগড়া তথ্য পরিবেশন করেন বলে অভিযোগ ওঠে। প্রকাশিত সংবাদে দাবি করা হয়, ৪০ থেকে ৫০ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল হামলা চালিয়ে ৩ লাখ টাকার ক্ষতি করেছে।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও জনসচেতন মহলের মতে, ৪০–৫০ জনের সশস্ত্র দল কোনো একক দোকানে হামলা চালালে সেখানে এক ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ার কথা, যা বাস্তবে দেখা যায়নি। সংবাদের নামে এমন অতিরঞ্জিত তথ্য প্রকাশের পর ভুক্তভোগী দোকানদার বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং বিষয়টি স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের নজরে আসে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘটনার দিনই (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকালের দিকে ওয়ালী হাসান কলি ক্যামেরার সামনে ভুক্তভোগী দোকানদারকে ভয়ভীতি দেখিয়ে একটি সাক্ষাৎকার রেকর্ড করেন। সেই বক্তব্যে প্রকৃত ঘটনা আড়াল করে পুরো দায় জামায়াতে ইসলামীর ওপর চাপানোর চেষ্টা হয় বলে ভুক্তভোগীর অভিযোগ।
হেফাজত থেকে পলাতক আসামি সুলতান, দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগপরদিন (৩০ সেপ্টেম্বর) ভিডিওটি তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে পোস্ট করা হলে কিছু রাজনৈতিক সমর্থক তা প্রচার করতে শুরু করেন বলে জানা গেছে। ভুক্তভোগীর কাছে থাকা তথ্য সংবাদমাধ্যমের হাতে পৌঁছানোর পর তিনি ফেসবুক আইডি থেকে ভিডিওটি মুছে ফেলেন—এমন অভিযোগ রয়েছে। ওই ভিডিওর অনুলিপি সুরক্ষিত রয়েছে বলে ভুক্তভোগী পক্ষ জানিয়েছে।
ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসী বলছেন, ভয়ে তাঁরা প্রকাশ্যে থানায় গিয়ে মামলা করতে পারছেন না। এই অবস্থায় জীবন ও সম্পদের সুরক্ষা এবং অভিযোগের তদন্তের জন্য তাঁরা মাননীয় ডেপুটি স্পিকার মহোদয়ের জরুরি হস্তক্ষেপ ও আইনি আশ্রয় প্রার্থনা করেছেন।
চাঁদাবাজির বিষয়টি আলাদা একটি পুরনো অভিযোগ। অনুসন্ধানে পাওয়া ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের ভাষ্য, সাংবাদিকতার পরিচয়ের আড়ালে চাঁদা আদায়ের একাধিক অভিযোগ আগেও উঠেছে। ইতিপূর্বে ১ লাখ টাকার একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে ১৫ হাজার টাকা চাঁদা দাবির তথ্য এই পত্রিকা ও অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশিত হয়েছিল। সেই দাবির অডিও রেকর্ড, চ্যাট হিস্ট্রি ও নথি সংরক্ষিত আছে বলে তাঁরা জানিয়েছেন। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, এসব অভিযোগ তদন্তের মাধ্যমে দেখা দরকার।
দুর্গাপুরে রাতারাতি লাখপতি ৫ জন, নেপথ্যে কে এই সাত্তার মাস্টারমূল প্রকাশ: ১ অক্টোবর ২০২৬, রাত ৮টা ৫৮ মিনিট। সর্বশেষ হালনাগাদ: ২ অক্টোবর ২০২৬, রাত ১২টা ৫১ মিনিট। হালনাগাদে ৩ লাখ টাকা ক্ষতির দাবি, দুর্গাপুর সাংবাদিক ফোরামের কথিত সভাপতি পরিচয় এবং ১ লাখ টাকার ঘটনায় ১৫ হাজার টাকা দাবির তথ্য যুক্ত হয়েছে।




