নিজস্ব প্রতিবেদক, দুর্গাপুর (নেত্রকোনা) | ১০ অক্টোবর ২০২৬
নেত্রকোনার দুর্গাপুর ও কলমাকান্দা উপজেলার মানুষের যাতায়াতের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি লাঘবে সোমেশ্বরী নদীর ওপর (দুর্গাপুর-শিবগঞ্জ) অস্থায়ী বাঁশ ও কাঠের সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। গতকাল শুক্রবার স্থানীয় আলেম-ওলামাদের উপস্থিতিতে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতের মধ্য দিয়ে জনগুরুত্বপূর্ণ এই নির্মাণকাজের শুভ উদ্বোধন করা হয়। বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের মাননীয় ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামালের ব্যক্তিগত উদ্যোগে এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনায় এই কাজ শুরু হয়েছে। গতকাল এই সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হওয়ায় নদীর দুই পাড়ের সাধারণ মানুষের মাঝে বইছে আনন্দের বন্যা, ফিরেছে স্বস্তির নিঃশ্বাস।
দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ ও জনদুর্দশা
দুর্গাপুর মূল শহর থেকে শিবগঞ্জসহ নদীর ওপারের ইউনিয়নগুলোর লাখো মানুষের নিত্যদিনের যাতায়াতের প্রধান বাধা এই সোমেশ্বরী নদী। বর্ষা মৌসুমে নৌকায় পারাপার কিছুটা স্বাভাবিক থাকলেও শুষ্ক মৌসুমে বিশাল বালুচর পেরিয়ে খেয়া পার হওয়া এক চরম দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে নারী, শিশু, বয়স্ক এবং অসুস্থ রোগীদের পোহাতে হয় অবর্ণনীয় কষ্ট। জনগণের এই দীর্ঘস্থায়ী দুর্দশা অনুধাবন করে বিগত বছরগুলোর ধারাবাহিকতায় এবছরও সেতুটি নির্মাণের উদ্যোগ নেন এলাকার রাজনৈতিক অভিভাবক ও ‘মানবতার ফেরিওয়ালা’ খ্যাত মাননীয় ডেপুটি স্পিকার।
সেতুর সুবিধা: যাতায়াতে আসবে যুগান্তকারী পরিবর্তন
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বাঁশ ও কাঠের তৈরি এই টেকসই অস্থায়ী সেতুটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলে এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে। সেতুটি চালু হলে শুধু পায়ে হাঁটা যাত্রীরাই নয়, এর ওপর দিয়ে অনায়াসে প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস এবং জরুরি সেবায় নিয়োজিত অ্যাম্বুলেন্স চলাচল করতে পারবে। এর ফলে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবেন ওপারের সাধারণ মানুষ। মুমূর্ষু রোগীদের আর ঘাটে নৌকার জন্য অপেক্ষা করতে হবে না; সরাসরি অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে পৌঁছানো সম্ভব হবে। পাশাপাশি নদী পারাপারের ভয় ও অনিশ্চয়তা ছাড়াই স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা যথাসময়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করতে পারবে।
দুর্গাপুরের প্রবেশদ্বারে ময়লা অপসারণ করে বৃক্ষরোপণপর্যটন ও অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব
যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হওয়ার কারণে দুর্গাপুরের পর্যটন খাতেও এর ব্যাপক প্রভাব পড়বে। শীতকাল এলেই সোমেশ্বরী নদীর বালুচর, মেঘালয়ের পাহাড় আর বিজয়পুরের চুনামাটির পাহাড় দেখতে সারা দেশ থেকে ছুটে আসেন দর্শনার্থীরা। সেতুটি চালু হলে পর্যটকরা কোনো রকম ভোগান্তি ছাড়াই সরাসরি পর্যটন স্পটগুলোতে যাতায়াত করতে পারবেন। এতে পর্যটক সমাগম বাড়ার পাশাপাশি স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যেও প্রাণচাঞ্চল্য ফিরবে।
এলাকাবাসীর স্বস্তি ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ
গতকাল উদ্বোধনের পর কাজ শুরু হওয়া মাত্রই এলাকার মানুষের চোখে-মুখে দেখা গেছে বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস। শিবগঞ্জ এলাকার এক বাসিন্দা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে বলেন, “বর্ষা শেষ হলেই নদী পারাপার নিয়ে আমাদের দুশ্চিন্তা শুরু হতো। নদী পার হতে গিয়ে আমাদের দুর্ভোগের কোনো শেষ ছিল না। মাননীয় ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল ভাই আমাদের এই কষ্টগুলো অন্তর থেকে অনুভব করেন। গতকাল ওনার এই মহতী উদ্যোগে আমরা চরম দুর্ভোগ থেকে রক্ষা পেলাম। আমরা আনন্দিত এবং ওনার প্রতি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ।”
এলাকাবাসীর দাবি, জনগণের মনের ভাষা বুঝতে পারা এমন জনদরদী নেতার উদ্যোগেই প্রতিনিয়ত পাল্টে যাচ্ছে দুর্গাপুরের দৃশ্যপট। শত ব্যস্ততার মাঝেও যিনি এলাকার সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখে ছায়ার মতো পাশে থাকেন, তিনিই প্রকৃত গণমানুষের নেতা।
সোমেশ্বরী সেতুর নিচের বেহাল সড়ক চলাচলের উপযোগীসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, অত্যন্ত দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই অস্থায়ী সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হবে এবং খুব শিগগিরই এটি সর্বসাধারণ ও যানবাহন চলাচলের জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক, দুর্গাপুর। ১০ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ৮টা ১০ মিনিট।

