নেত্রকোনা দুর্গাপুর প্রতিনিধি: সুস্থ হওয়ার আশায় হাসপাতালে এসে উল্টো আরও জটিল ভাইরাসে সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ছেন নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের রোগীরা। ৫০ শয্যার এই সরকারি হাসপাতালটির টয়লেট ও সার্বিক পরিচ্ছন্নতার এমন বেহাল দশা যে, ভেতরে ঢোকাই দায়। একদিকে দুর্গন্ধে দম বন্ধ হওয়ার উপক্রম, অন্যদিকে পরিচ্ছন্নতা খাতের লাখ লাখ টাকার বাজেট নিয়ে উঠেছে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ।
অভিযোগের ভিত্তিতে জানা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শুধুমাত্র লিনেন (হাসপাতালের কাপড়) ধোয়ার জন্যই পৃথক সরকারি টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে, যার প্রাক্কলিত মূল্য প্রায় ১০ থেকে ২৮ লাখ টাকার ঘরে। এর বাইরে টয়লেট, ড্রেন, মেঝে পরিষ্কার এবং অন্যান্য সামগ্রী মিলিয়ে পুরো পরিচ্ছন্নতা খাতের জন্য সরকারের বিপুল অংকের অর্থ ব্যয় হওয়ার কথা। কিন্তু এত বড় বাজেট থাকার পরও হাসপাতালের বাথরুমগুলো ভাঙা, নোংরা এবং সম্পূর্ণ ব্যবহার অযোগ্য বলে অভিযোগ। তাহলে জনগণের ট্যাক্সের এই লাখ লাখ টাকা পরিচ্ছন্নতার বদলে কার পকেটে যাচ্ছে—এমন প্রশ্ন এখন সবার মুখে।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, হাসপাতালে পরিচ্ছন্নতার জন্য সরকারিভাবে বড় বাজেট থাকলেও বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন নেই। ভুক্তভোগী রোগীদের স্বজনরা জানান, “বাথরুমের দুর্গন্ধে ওয়ার্ডে টেকাই মুশকিল, ভেতরে ঢোকার তো প্রশ্নই আসে না। সরকার এত টাকা দিচ্ছে, অথচ এখানে নিয়মিত পরিষ্কার করার মতো কোনো কর্মীকেই চোখে পড়ে না।”
জীবন বাঁচানোর হাসপাতাল নাকি মৃত্যুর নতুন ফাঁদদীর্ঘদিন ধরে চলা এই অব্যবস্থাপনা ও স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণে স্থানীয়দের মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। এ অবস্থায় সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে এবং হাসপাতালের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে এলাকার সাধারণ জনগণ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের মাননীয় ডেপুটি স্পিকার মহোদয়ের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এলাকাবাসীর জোর দাবি, দ্রুত এই অনিয়মের সঠিক তদন্ত করে জবাবদিহি নিশ্চিত করা হোক, যাতে সাধারণ মানুষ তাদের কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত না হয়।
নেত্রকোনা দুর্গাপুর প্রতিনিধি। ৪ অক্টোবর ২০২৬, রাত ৮টা ৩৮ মিনিট।

