অনুসন্ধান
রোগীর টাকায় রোগ নির্ণয়, অথচ সেই নির্ণয় যদি হয় ভুল, তবে রোগীর ভাগ্যে কী জোটে? নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলায় ছড়িয়ে থাকা প্রাইভেট ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর সেবার মান নিয়ে এখন এমনই এক গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। সম্প্রতি বেশ কয়েকটি ল্যাব রিপোর্টের অসংগতি জনমনে আতঙ্ক ও প্রশ্ন তৈরি করেছে। মানুষের জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসাসেবা কি তবে পরিণত হয়েছে স্রেফ ব্যবসায়িক খেলায়?
রিভার্স নিউজের অনুসন্ধানী ডেস্কে সম্প্রতি দুর্গাপুরের বেশ কয়েকটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষার একাধিক রিপোর্ট এসে পৌঁছেছে। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে এই রিপোর্টগুলোর ফলাফলে উদ্বেগজনক বিভ্রান্তি ও অসংগতি পরিলক্ষিত হয়েছে। রিপোর্টের সত্যতা ও মান নিয়ে সন্দিহান হয়ে আমরা সেগুলো ইতিমধ্যে উচ্চতর বিশেষজ্ঞ ল্যাবে যাচাই-বাছাইয়ের জন্য পাঠিয়েছি। যদি এই রিপোর্টগুলো ভুল বা ভুয়া প্রমাণিত হয়, তবে তা কেবল রোগীর আর্থিক ক্ষতি নয়, বরং ভুল চিকিৎসার কারণে রোগীর জীবনের ঝুঁকির সমতুল্য।
সমিতি ও প্রশ্ন
এই পরিস্থিতিতে প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে স্থানীয় ক্লিনিক মালিকদের ভূমিকাও। রিভার্স নিউজের হাতে আসা ছবিতে দুর্গাপুরের ক্লিনিক মালিক সমিতির সদস্যদের একসঙ্গে দেখা গেছে। মালিকদের এই ঐক্য একটি গভীর প্রশ্নের জন্ম দেয়—এই সমিতি কি কেবল নিজেদের ব্যবসায়িক স্বার্থ রক্ষায় একতাবদ্ধ, নাকি স্থানীয় ডায়াগনস্টিক সেবার মান নিশ্চিত করতেও তাদের সাংগঠনিক দায়বদ্ধতা রয়েছে?
যেহেতু সমিতির সদস্যরা সম্মিলিতভাবে এই খাতের প্রতিনিধিত্ব করছেন, তাই অভিযোগের তীর এখন আর কোনো একক প্রতিষ্ঠানের দিকে নয়; বরং পুরো সমিতি ও স্থানীয় প্রাইভেট স্বাস্থ্যসেবার সার্বিক মানের দিকে। ছবিতে সততা ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সাইনবোর্ড দেখা যায়; এটি সভার স্থান হিসেবে নথিভুক্ত—এই খবর সেই একটি প্রতিষ্ঠানকে এককভাবে অভিযুক্ত করছে না।
যাচাই চলছে
রিভার্স নিউজ বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতায় বিশ্বাসী। উচ্চতর ল্যাব থেকে চূড়ান্ত যাচাই প্রতিবেদন হাতে না আসা পর্যন্ত আমরা কোনো প্রতিষ্ঠানকে সরাসরি অপরাধী সাব্যস্ত করছি না বা চূড়ান্ত রায় দিচ্ছি না। অবস্থান সুস্পষ্ট: যদি এই রিপোর্টগুলো ভুল প্রমাণিত হয়, তবে তা বিনা চ্যালেঞ্জে ছেড়ে দেওয়া হবে না।
রোগীর টাকায় রোগ নির্ণয়—এটা ব্যবসা হতে পারে, খেলা হতে পারে না।
আইন
চিকিৎসাসেবা কোনো সাধারণ পণ্য নয়। বাংলাদেশের দ্য মেডিকেল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ (রেগুলেশন) অর্ডিন্যান্স, ১৯৮২ এবং প্রচলিত ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী প্রতিটি ভুল রিপোর্টের জন্য সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।
প্রশাসনের করণীয়
জনস্বাস্থ্যের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের নীরব দর্শক হয়ে থাকার সুযোগ নেই। রিভার্স নিউজ মনে করে, এখনই পদক্ষেপ নেওয়ার সময়:
জরুরি তদন্ত ও অভিযান: নেত্রকোনার সিভিল সার্জন এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে অবিলম্বে দুর্গাপুরের ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করতে হবে।
যন্ত্রপাতি ও জনবল যাচাই: ল্যাবগুলোতে মানসম্মত রিএজেন্ট, আধুনিক যন্ত্রপাতি এবং বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) অনুমোদিত প্যাথলজিস্ট ও দক্ষ টেকনিশিয়ান আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে হবে।
লাইসেন্স: যেসব প্রতিষ্ঠানের বৈধ লাইসেন্স নেই বা যারা মেয়াদোত্তীর্ণ যন্ত্রপাতি দিয়ে পরীক্ষা করছে, তাদের কার্যক্রম আইন অনুযায়ী স্থগিতের প্রশ্ন উঠবে।
রিভার্স নিউজ ডেস্ক · দুর্গাপুর প্রতিনিধি · ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬





