ঘটনা
নেত্রকোনার দুর্গাপুর থানার ঠিক সামনে অবস্থিত চর মুক্তারপাড়া (বালুচর) এলাকায় দিনেদুপুরে ঘটেছে এক চাঞ্চল্যকর চাঁদাবাজির ঘটনা। শিবগঞ্জ নদীর ওপার, বিরিশিরির উত্রাইল বাজার কিংবা কৃষ্ণচূড় বাজারের মতো সরকারি সড়ক নির্মাণ ও উন্নয়নমূলক কাজের জন্য উচ্ছেদকৃত স্থাপনাগুলোকে নিজেদের ক্ষমতার প্রতাপ বলে প্রচার করছে একটি সাংবাদিক চক্র—এমন অভিযোগ এলাকাবাসীর। সরকারি এসব উচ্ছেদ নাকি তারা নিজেদের সাংবাদিকতার ক্ষমতায় করিয়েছে—সাধারণ মানুষকে এমন মিথ্যা দম্ভ ও ভয় দেখিয়ে এবার এক নির্মাণাধীন বাড়ির কেয়ারটেকারের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে খোদ সাংবাদিক নেতাদের বিরুদ্ধে।
অভিযুক্ত
অভিযুক্তরা কোনো ভুয়া সাংবাদিক নন, তারা পেশায় সরাসরি সাংবাদিকতায় যুক্ত—প্রত্যক্ষদর্শী ও এলাকাবাসীর অভিযোগ এমনই। এই চাঁদাবাজির ঘটনায় সরাসরি অভিযুক্তরা হলেন স্থানীয় সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি ওয়ালি হাসান তালুকদার এবং একই ক্লাবের উপদেষ্টা ও এনটিভি অনলাইনের সাংবাদিক ওয়াদুদ ভূঁইয়া। ঘটনার সময় তাদের সাথে অজ্ঞাতনামা আরও তিনজন সহযোগী উপস্থিত ছিল বলে অভিযোগ।
অনুসন্ধানে সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি ওয়ালি হাসান সম্পর্কে আরও তথ্য উঠে এসেছে। জানা গেছে, দুর্গাপুরের ঝরিয়া-ঝাঞ্জাইল এলাকার ঝাঞ্জাইল ব্রিজের কাছে গভীর রাতে (রাত ৩টার পর) অবৈধ বালুবাহী সিএনজি ও অটোগাড়িগুলো থেকে তিনি দীর্ঘদিন যাবত নিয়মিত চাঁদা আদায় করে আসছেন—এমন অভিযোগও এলাকাবাসী তুলেছেন।
এলাকা বহির্ভূত উপস্থিতি
এখানে সবচেয়ে প্রশ্নবিদ্ধ বিষয়টি হলো, এনটিভি অনলাইনের সাংবাদিক ওয়াদুদ ভূঁইয়ার রিপোর্টিং এরিয়া বা দায়িত্বপ্রাপ্ত এলাকা হলো নেত্রকোনা জেলার পূর্বধলা থানা এবং নেত্রকোনা সদর থানা। অথচ নিজের নির্ধারিত এলাকা ছেড়ে তিনি দুর্গাপুর থানায় এসে নিয়মবহির্ভূতভাবে এমন অপতৎপরতা ও চাঁদাবাজি চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ। তার এই এখতিয়ারবহির্ভূত অনুপ্রবেশ এবং সাধারণ মানুষকে হয়রানি করার বিষয়ে প্রশাসনের কঠোর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন এলাকাবাসী। তাদের দাবি, অন্য এলাকার সাংবাদিক এসে দুর্গাপুরে এমন কর্মকাণ্ড চালানোর সাহস কীভাবে পায়, তা খতিয়ে দেখা উচিত।
চাঁদা আদায়
জানা গেছে, চর মুক্তারপাড়া এলাকার বাসিন্দা মঞ্জুল হক ওরফে হাত কাটা মঞ্জুলের আপন ভগ্নিপতি রবি বর্তমানে ওই এলাকায় একটি নির্মাণাধীন বাড়ির কেয়ারটেকারের দায়িত্বে আছেন। অভিযুক্ত এই সাংবাদিকরা দিনেদুপুরে রবির কাছে গিয়ে চাঁদা দাবি করে বলে অভিযোগ। চাঁদা না দিলে আগের বাজারগুলোর মতো ক্ষমতার জোরে এই বাড়িও ভেঙে ফেলা হবে—এমন হুমকি দিয়ে তারা জোরপূর্বক নগদ ১৫ হাজার টাকা আদায় করে। শুধু তাই নয়, আরও ৮৫ হাজার টাকা পরে নেবে বলে দাবি করে তারা স্থান ত্যাগ করে—ভুক্তভোগী পরিবারের বক্তব্য এমন।
পুলিশের ভূমিকা
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয়টি হলো প্রশাসনের ভূমিকা। দুর্গাপুর থানার একেবারে নাকের ডগায় এমন ঘটনা ঘটার পর ভুক্তভোগীরা বিষয়টি থানা পুলিশ প্রশাসনকে অবগত করেন। কিন্তু পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, তাৎক্ষণিকভাবে তাদের আটকে রেখে আমাদের জানানো উচিত ছিল। এখন যেহেতু আপনারা টাকা দিয়েই ফেলছেন, বাকি টাকা যেদিন নিতে আসবে সেদিন ৯৯৯-এ ফোন দিবেন। আমরা তাৎক্ষণিকভাবে গিয়ে ধরার চেষ্টা করব। থানার এত কাছে এমন গুরুতর হুমকি দিয়ে টাকা নেওয়ার পরও পুলিশের এমন দায়সারা বক্তব্য ও যথাযথ তদন্তে অনীহা নিয়ে সাধারণ জনগণ ক্ষুব্ধ এবং তারা এর সুস্পষ্ট জবাবদিহি চাইছে।
টাকা ফেরতের প্রতিশ্রুতি
পরবর্তীতে ভুক্তভোগী পরিবার বিষয়টি স্থানীয় বিএনপি, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতৃবৃন্দকে অবগত করে। নেতৃবৃন্দের হস্তক্ষেপে উপজেলা ডাকবাংলোর সামনে অবস্থিত সাংবাদিক ফোরামের কার্যালয়ে ওয়ালি হাসানের সাথে একটি বৈঠক হয়। সেখানে স্থানীয় নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে চাঁদাবাজির নগদ ১৫ হাজার টাকা ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও অদ্যাবধি সেই টাকা ভুক্তভোগীকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি বলে পরিবার জানিয়েছে।
জনরোষ
টাকা ফেরত না দেওয়া এবং প্রশাসনের যথাযথ পদক্ষেপ না থাকায় বর্তমানে চর মুক্তারপাড়া এলাকার সাধারণ মানুষের মাঝে উত্তেজনা বিরাজ করছে। জনরোষ এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, বিক্ষুব্ধ জনগণ যেকোনো মুহূর্তে ওই সাংবাদিক ফোরামের কার্যালয় ভাঙচুর পর্যন্ত করতে পারে বলে জোরালো আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সাধারণ মানুষকে জিম্মি করা এসব অভিযোগের বিরুদ্ধে অনতিবিলম্বে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ ও সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করছেন এলাকাবাসী।
রিভার্স নিউজ ডেস্ক · দুর্গাপুর প্রতিনিধি · ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬





