হাসপাতাল না মৃত্যুর ফাঁদ

নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি বর্তমানে রোগীদের জীবন বাঁচানোর জায়গার বদলে যেন মৃত্যুর নতুন ফাঁদে পরিণত হয়েছে। সুস্থ হওয়ার আশায় চিকিৎসা নিতে এসে রোগীরা উল্টো আরও মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন এবং চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

সম্প্রতি একটি ভিডিওচিত্রে এই হাসপাতালের ভেতরের ভয়ংকর ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের চিত্র ফুটে উঠেছে। ভিডিওতে দেখা যায়, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের টয়লেটগুলো অত্যন্ত নোংরা, মলমূত্র ও জীবাণুযুক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। বেসিনগুলো ময়লার স্তূপে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে আছে। এমন ভয়াবহ নোংরা পরিবেশে একজন সুস্থ মানুষ গেলেও সে মৃত্যুর মুখে পতিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সরকারি বরাদ্দ যায় কোথায় এবং কেন এই অনিয়ম?

সরকারি বিধি মোতাবেক, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিচ্ছন্নতা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রতি বছর কোটি কোটি টাকার ফান্ড বরাদ্দ করা হয়। এই বরাদ্দের আওতায় ক্লিনিং স্টাফদের বেতন, ব্লিচিং পাউডার, ফিনাইল, হারপিক, স্যাভলনসহ যাবতীয় পরিচ্ছন্নতা সামগ্রী ও জীবাণুনাশক কেনার কথা। কিন্তু দুর্গাপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এই বেহাল দশা দেখে জনমনে একটাই প্রশ্ন—পরিচ্ছন্নতার জন্য বরাদ্দকৃত এই কোটি কোটি টাকার ফান্ড তাহলে যাচ্ছে কোথায়?

বিস্তারিত বিশ্লেষণে দেখা যায়, এই অনিয়মের পেছনে বেশ কয়েকটি কারণ দায়ী। জবাবদিহিতার অভাব—ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিয়মিত পরিদর্শনের অভাব থাকায় স্থানীয় প্রশাসন ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা তাদের দায়িত্ব পালনে চরম অবহেলা প্রদর্শন করছেন। বরাদ্দের অর্থ আত্মসাৎ—পরিচ্ছন্নতা সামগ্রী কেনার জন্য যে সরকারি অর্থ বরাদ্দ আসে, তা সঠিকভাবে ব্যয় না করে ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে আত্মসাৎ করার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। স্টাফদের গাফিলতি—নিয়োগপ্রাপ্ত সুইপার ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা নিয়মিত তাদের দায়িত্ব পালন না করে কেবল মাস শেষে বেতন তুলে নিচ্ছেন, আর তদারকির অভাবে পার পেয়ে যাচ্ছেন।

হেফাজত থেকে পলাতক আসামি সুলতান, দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ

এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের অভিযোগ ও জনগণের দাবি

এটি কেবল একদিনের চিত্র নয়, এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের অভিযোগ—দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুর্গন্ধ ও নোংরা পরিবেশের কারণে সাধারণ রোগীরা এখানে চিকিৎসা নিতে আসতে ভয় পান। ওয়ার্ডের ভেতরে দুর্গন্ধে টিকে থাকা দায়।

এই ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকি ও অব্যবস্থাপনার অবসান ঘটিয়ে হাসপাতালটিকে একটি প্রকৃত চিকিৎসাকেন্দ্র হিসেবে ফিরে পেতে দুর্গাপুরের সাধারণ মানুষ ও ভুক্তভোগী রোগীদের কিছু সুস্পষ্ট দাবি রয়েছে। জরুরি পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালিয়ে অবিলম্বে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের মাধ্যমে পুরো হাসপাতালের টয়লেট, বেসিন ও ওয়ার্ডগুলো জীবাণুমুক্ত করে ব্যবহার উপযোগী করতে হবে। তহবিলের স্বচ্ছতা ও তদন্তের দাবি—পরিচ্ছন্নতা খাতের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি অর্থের সঠিক হিসাব জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে এবং বিগত দিনগুলোতে এই অর্থ কোথায় ব্যয় হয়েছে তার সুষ্ঠু তদন্ত করতে হবে। দায়ীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে—যারা এই অর্থ আত্মসাৎ এবং চরম অবহেলার সাথে জড়িত, তাদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে।

দুর্গাপুরবাসীর প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ অনতিবিলম্বে এই হাসপাতালটির দিকে নজর দেবেন এবং সাধারণ মানুষের সুচিকিৎসা ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করবেন।

দুর্গাপুরে রাতারাতি লাখপতি ৫ জন, নেপথ্যে কে এই সাত্তার মাস্টার

রিভার্স নিউজ নেত্রকোনা প্রতিনিধি · দুর্গাপুর · ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ১১টা ৪৫ মিনিট