শুক্রবারের ঢাকা

শুক্রবার দুপুর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত রাজধানী ঢাকা পরিকল্পিত আতঙ্কের নগরীতে পরিণত হয়। জুমার নামাজের পর থেকে নাশকতা ক্রমশ ভয়াবহ রূপ নেয়। ফ্লাইওভারের ওপর থেকে ককটেল নিক্ষেপ এবং রাতের আঁধারে যাত্রীবাহী বাসে অগ্নিসংযোগে সাধারণ মানুষের মনে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

যেভাবে শুরু হয়

নাশকতার ধারাবাহিকতা শুরু হয় মালিবাগ থেকে। জুমার নামাজের পরপরই সোহাগ বাস কাউন্টারের সামনে প্রথম ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটে। এরপর দুর্বৃত্তরা বেছে নেয় রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট। বিকেলের দিকে আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ বেতার ভবনের সামনে এবং মহাখালী ফ্লাইওভারের ওপর থেকে নিচে অতর্কিত ককটেল ছোড়া হয়। বাদ যায়নি রামপুরার বিটিভি ভবন এলাকাও। প্রতিটি হামলাতেই কৌশল ছিল ফ্লাইওভার বা উঁচু স্থান থেকে ককটেল ছুড়ে দ্রুত সরে যাওয়া।

যাত্রাবাড়ী

সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটের দিকে যাত্রাবাড়ী থানা ভবন ও সংলগ্ন ট্রাফিক বক্সের কাছে বিস্ফোরণ ঘটে। এই হামলায় ইবাদুর রহমান নামের এক ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালক গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।

রাতে বাসে আগুন

রাত ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে বাবুবাজার ব্রিজের নিচ, বঙ্গবাজার, গুলিস্তান ও মগবাজার মোড়ে মুহুর্মুহু ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। রাত সোয়া ১০টার দিকে কাফরুল থানার সামনে দাঁড়ানো মিরপুর সুপার লিংক মালিক সমিতির যাত্রীবাহী বাসে (ঢাকা মেট্রো-ব ১১-৭২৩৭) আগুন ধরে।

ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। স্থানীয়দের সহায়তায় আধা ঘণ্টার চেষ্টায় রাত সাড়ে ১০টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। কাফরুল থানার দায়িত্বরত উপপরিদর্শক (এসআই) জহিরুল ইসলাম বাসে অগ্নিকাণ্ড নিশ্চিত করে জানান, জনতার তাৎক্ষণিক সহায়তায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো গেছে।

তদন্ত

ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) জানিয়েছে, নাশকতার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণসহ নিবিড় তদন্ত শুরু হয়েছে।

রিভার্স নিউজ ডেস্ক · ঢাকা · ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬