নভেম্বরের পরিকল্পনায় আপত্তি

চলতি বছরের নভেম্বর থেকে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন শুরুর যে প্রাথমিক পরিকল্পনা নির্বাচন কমিশন (ইসি) করেছিল, তাতে আপত্তি জানিয়েছেন সরকারের শীর্ষ সচিব ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রধানরা। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যস্ততা এবং শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা বিবেচনায় চলতি বছরের পরিবর্তে আগামী বছরের জানুয়ারিতে ভোট আয়োজনের জোরালো পরামর্শ দিয়েছেন তাঁরা।

আগারগাঁওয়ের বৈঠক

বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠক হয়।

বৈঠকে অংশ নেওয়া সচিবরা জানান, নভেম্বর ও ডিসেম্বর জুড়ে শিক্ষার্থীদের বার্ষিক ও বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। পাশাপাশি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস পালনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ব্যস্ত থাকবেন। দীর্ঘ সময় নিয়ে নির্বাচন হলে সরকারের চলমান অগ্রাধিকারমূলক উন্নয়ন কার্যক্রমও ব্যাহত হতে পারে। সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনায় সচিবদের প্রায় সবাই নভেম্বর-ডিসেম্বরের পরিবর্তে আগামী বছরের জানুয়ারিতে নির্বাচন শুরু করার পক্ষে মত দেন।

ইসি যা বলেছে

বৈঠক শেষে নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মোহাম্মদ সানাউল্লাহ সাংবাদিকদের জানান, আসন্ন রমজানসহ বিভিন্ন সার্বিক দিক বিবেচনায় নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট তারিখ এখনো চূড়ান্ত করা হয়নি। তবে এইচএসসি পরীক্ষা শুরুর আগেই—অর্থাৎ আগামী ৬ জুনের মধ্যে ইউপি নির্বাচন সম্পন্ন করার ব্যাপারে সবাই ঐকমত্যে পৌঁছেছেন।

বৈঠকে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি ও আইজিপি মোহাম্মদ আলী হোসেন ফকিরও নভেম্বর-ডিসেম্বরের পরিবর্তে জানুয়ারিতে ভোট গ্রহণ শুরু করে রোজার আগে কিংবা ৬ জুনের মধ্যে শেষ করার সুপারিশ করেছেন।

আগের সম্ভাব্য সূচি

এর আগে নির্বাচন কমিশন অনানুষ্ঠানিকভাবে আগামী ১২ নভেম্বর প্রথম ধাপ শুরু করে আগামী বছরের ২৭ মে সপ্তম ধাপ পর্যন্ত সাত দফায় ইউপি নির্বাচন শেষ করার সম্ভাব্য পরিকল্পনা হাতে নিয়েছিল। সচিবদের সুপারিশের পর কমিশন চলতি বছর ভোট না করার বিষয়ে নীতিগত অবস্থান নিয়েছে। শিগগিরই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হবে।

রিভার্স নিউজ ডেস্ক · ঢাকা · ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬