যা ঘটেছে

শুক্রবার রাতে রাজধানীর মিরপুর ১১ নম্বর অ্যাভিনিউ-৫-এর প্রান্তিক হাউজিং এলাকায় মুখে মাস্ক পরিহিত ৫০ থেকে ৬০ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল প্রবেশ করে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, তাদের অনেকের হাতে রামদা, ধারালো বগি ও দেশীয় অস্ত্র ছিল। দীর্ঘ সময় সড়কজুড়ে ত্রাস সৃষ্টি, আশপাশের বাসাবাড়ির জানালার কাচ ও নিরাপত্তার সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে।

সিসিটিভি ফুটেজে রাস্তায় একাধিক যুবককে হাতে ধারালো অস্ত্র নিয়ে হাঁটতে দেখা যায়। স্থানীয়রা এই দলকে পল্লবী-কালশী এলাকায় কুখ্যাত ‘ভৈরা দে’ গ্রুপ তথা আশিক গ্যাংয়ের সদস্য হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। অভিযোগ, নতুন এলাকা দখল ও আধিপত্য বাড়াতেই প্রকাশ্য সশস্ত্র মহড়া দেখানো হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী যা বলছেন

ঘটনাস্থলের এক বাসিন্দা ভয়ার্ত কণ্ঠে জানান, লম্বা রামদা ও বগি হাতে তারা হুমকি দিচ্ছিল। শার্টের কলার ছিঁড়ে নিয়ে যাওয়ার কথাও তিনি বলেন। “যদি একটা কথা কইতাম, আমারে বাড়ি দিয়া শেষ কইরা দিত”—এমন আতঙ্কের কথা জানিয়ে তিনি দ্রুত সরে যান।

আরেক বাসিন্দা সন্তানদের নিয়ে থাকার কথা উল্লেখ করে বলেন, সবার মুখ ঢাকা, বড় বড় রামদা হাতে এমন আতঙ্ক তৈরি হয়েছে যে সুস্থ এলাকার মানুষ শান্তিতে থাকতে পারবে না।

হেফাজত থেকে পলাতক আসামি সুলতান, দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ

মামলা থাকলেও জামিন

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কথিত ‘ভৈরা দে’ গ্রুপের সদস্য সংখ্যা শতাধিক বলে দাবি করা হয়। আশিকের বিরুদ্ধে পল্লবীসহ বিভিন্ন থানায় হত্যা, চাঁদাবাজি ও অস্ত্র আইনে প্রায় ৩০টি মামলার অভিযোগ রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হুমকিমূলক পোস্টের অভিযোগও আছে।

এলাকাবাসী ও নাগরিক সমাজের প্রশ্ন—হত্যাসহ এতগুলো মামলার আসামি হয়েও কীভাবে বারবার জামিনে বেরিয়ে নতুন এলাকায় সশস্ত্র মহড়া দেওয়া সম্ভব? পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে এবং আইনের আওতায় এনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আইনের ফাঁক নিয়ে প্রশ্ন

নাগরিক ও আইন বিশেষজ্ঞদের প্রশ্ন তিনটি। পুনরাবৃত্তিমূলক জামিনের পথ কেন রুদ্ধ নয়? আদালতে দুর্বল অভিযোগপত্র কেন যায়, যার ফাঁক গলে চিহ্নিত গ্যাং নেতারা সহজে জামিন পান? রাজধানীর বুকে প্রকাশ্যে ধারালো অস্ত্র নিয়ে মহড়ার সময় নজরদারি কোথায় থাকে?

দুর্গাপুরে রাতারাতি লাখপতি ৫ জন, নেপথ্যে কে এই সাত্তার মাস্টার

রিভার্স নিউজের অবস্থান স্পষ্ট। এটি অভিযোগ ও প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্যের ভিত্তিতে তৈরি প্রতিবেদন। কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে আদালতের চূড়ান্ত রায় নয়। নির্দোষতার অনুমান বহাল থাকে যতক্ষণ আদালত দোষী সাব্যস্ত না করেন। তদন্তের দায়িত্ব ঢাকা মহানগর পুলিশ, সংশ্লিষ্ট থানা ও বিচার বিভাগের।

রিভার্স নিউজ ডেস্ক · মিরপুর, ঢাকা · ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ৮টা ২৯ মিনিট