নিজস্ব প্রতিনিধি, নেত্রকোনা: নিখোঁজের ছয় দিন পর এক নারীর মাটিচাপা মরদেহ উদ্ধার করেছে নেত্রকোনা মডেল থানা-পুলিশ। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় সদর উপজেলার ঢুকিয়ালি নদের পাড় থেকে মরদেহটি তোলা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নিহতের সাবেক স্বামী হত্যার কথা বলেছেন। তাঁকে আটক করা হয়েছে। ঘটনাটি এখনো আদালতে প্রমাণিত নয়। যা এসেছে, তা পুলিশের বর্ণনা ও থানার তদন্তসূত্র।
কে এই নারী
পুলিশ ও স্বজনের বরাতে নিহতের নাম নাজু আক্তার, বয়স ৩৫। কোনো কোনো প্রতিবেদনে একই নারীকে নাজমা আক্তার (৩৪) নামেও লেখা হয়েছে। তিনি সদরের কাটলী এলাকার ইসলাম উদ্দিনের মেয়ে। আটক নুরুল আমিন (৪০) নগুয়া কুশলগাঁও গ্রামের বাসিন্দা। তাঁদের বিয়ে হয়েছিল প্রায় ১৪ বছর আগে। ঘরে দুই সন্তান। পুলিশের ফ্ল্যাশ বর্ণনায় সন্তান দুটির বয়স ধরা হয়েছে ছয় বছর ও আড়াই বছর।
দ্বিতীয় সন্তান জন্মের পর দম্পতির সম্পর্ক ভেঙে যায়। পুলিশ বলছে, দুই দফায় বিবাহবিচ্ছেদ হয় এবং দেনমোহর বাবদ দুই দফায় দুই লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়েছিল। এরপর নাজু সাবেক স্বামীর বিরুদ্ধে ভরণপোষণ ও ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন। মীমাংসার জন্য তিনি পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেছিলেন বলে থানা সূত্র জানিয়েছে। একটি ধর্ষণ মামলা পিবিআইয়ের তদন্তে ছিল বলেও পুলিশের বর্ণনায় এসেছে। এসব অভিযোগ আদালতে কী পর্যায়ে, তা এ প্রতিবেদন লেখার সময় চূড়ান্ত রায় আকারে পাওয়া যায়নি।
১৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা
পুলিশের দেওয়া বিবরণ অনুযায়ী, গত ১৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে নাজু নিখোঁজ হন। সেদিন সন্ধ্যায় তিনি খেতের কীটনাশক কিনতে জেলা শহরে গিয়েছিলেন। সেখানে নুরুল আমিনের সঙ্গে দেখা হয়। টাকা নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়, মুঠোফোন নিয়েও টানাহেঁচড়া হয়। স্থানীয় লোকজন তাঁদের আলাদা করে দেন।
পুলিশ বলছে, এরপর টাকা দেওয়ার কথা বলে রাত সাড়ে দশটার দিকে ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেলে নাজুকে নিয়ে বাড়ির দিকে রওনা দেন নুরুল। বাড়ির কাছাকাছি মৌগাতী ইউনিয়নের খাটপুড়া সেতুর কাছে আবার তর্ক হয়। একপর্যায়ে নুরুল নাজুর বুকে আঘাত করেন। নাজু মাটিতে পড়ে যান। মোটরসাইকেলচালক তাঁদের সেখানে রেখে চলে যান। পুলিশের অন্য বর্ণনায় সেদিন সন্ধ্যার বাকবিতণ্ডার কথা বড়বাজার এলাকায় এবং পরে রিকশায় রাজু বাজার হয়ে মোটরসাইকেলে খাটপুড়া ব্রিজে নেওয়ার কথাও আছে। দুই বিবরণের জায়গার নামে কিছু ফারাক আছে। মূল সূত্র একটাই: সেতুর কাছে রাত সাড়ে দশটার দিকে টাকা নিয়ে নতুন করে ঝগড়া, তারপর আঘাত।
হেফাজত থেকে পলাতক আসামি সুলতান, দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগপুলিশ যা বলছে হত্যার পর
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নুরুল আমিন পুলিশকে বলেছেন, পরে তিনি ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে নাজুকে হত্যা করেন। এরপর ঢুকিয়ালি নদের পাড়ে গর্ত করে মরদেহ মাটিচাপা দেন। থানার ভাষ্যে, মরদেহ কাঁধে করে সেতুর পাশের শ্মশানঘাট থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে নিজ বাড়ির পাশের নদীর পাড়ে নিয়ে কোদাল দিয়ে পুঁতে রাখা হয়। এটি আসামির মুখের কথা, যা পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে জানিয়েছে। আদালতে স্বীকারোক্তি বা ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত ফল এখনো প্রকাশিত হয়নি।
জিডি থেকে উদ্ধার
নাজু বাড়ি না ফেরায় ২২ সেপ্টেম্বর তাঁর ছোট ভাই মো. শুভ (কোনো সূত্রে শুভ মিয়া) নেত্রকোনা মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। সেই জিডির তদন্তে পুলিশ নুরুল আমিনকে আটক করে। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার কথা বলেন এবং মরদেহের জায়গা দেখান বলে থানা জানিয়েছে।
শুক্রবার সন্ধ্যায় খাটপুড়া সেতুসংলগ্ন এলাকা থেকে ওড়না, মুঠোফোন ও জুতা উদ্ধার করা হয়। পরে নুরুলের বাড়ির পাশে ঢুকিয়ালি নদের পাড় খুঁড়ে মাটিচাপা অবস্থায় মরদেহ তোলা হয়।
থানা যা বলল শনিবার সকালে
নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল খায়ের শনিবার সকালে বলেন, আসামির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী মাটি খুঁড়ে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ওড়না, ফোন ও জুতাও পাওয়া গেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হচ্ছে। পরিবার লিখিত এজাহার দিলে নিয়মিত হত্যা মামলা হবে। এ ঘটনায় হত্যা মামলাসহ আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। হত্যায় অন্য কেউ জড়িত কি না, তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
দুর্গাপুরে রাতারাতি লাখপতি ৫ জন, নেপথ্যে কে এই সাত্তার মাস্টারএখন যা বাকি
ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন, পরিবারের লিখিত অভিযোগ এবং আদালতে আসামির বক্তব্য—এই তিনটি না আসা পর্যন্ত ঘটনার পুরো চিত্র থানার প্রাথমিক বিবরণেই সীমাবদ্ধ। রিভার্স নিউজ পুলিশের বক্তব্যকে রায় হিসেবে ছাপেনি। নাম, বয়স ও সেদিনের পথ নিয়ে সূত্রে সামান্য গরমিল আছে। সেই গরমিল চেপে রাখা হয়নি।
নিজস্ব প্রতিনিধি · নেত্রকোনা · ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ১০টা ০০ মিনিট ০০ সেকেন্ড




