যা দেখা গেছে
নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে সারি সারি মোটরসাইকেল। দেখলে মনে হবে কোনো সালিশ বসছে। অথচ এটা উপজেলার আড়াই লাখ মানুষ এবং পার্শ্ববর্তী কলমাকান্দা-ধোবাউড়ার মানুষের প্রধান সরকারি চিকিৎসা ভরসা। বিষয়টা কোনো দরবার নয়—এটা রোগীর রাস্তা।
স্থানীয়দের অভিযোগ
এই বাইকগুলোর বড় অংশ ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধি ও আশপাশের প্রাইভেট ক্লিনিক সংশ্লিষ্টদের বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। রোগী যে পথে অ্যাম্বুলেন্স বা ভ্যান নিয়ে ঢুকবে, সেই পথই বন্ধ। অভিযোগ আরও কঠিন—কিছু গাড়িকে জায়গা দেওয়া হয়, রোগীর গাড়ি অনেক সময় ঢুকতেই দেওয়া হয় না।
প্রশ্ন একটাই: ওষুধ বিক্রির সুবিধা কি রোগীর প্রাণের আগে?
এটা শুধু পার্কিং নয়
এটি ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতা। সরকারি হাসপাতালের গেট যদি প্রাইভেট স্বার্থের পার্কিংলটে পরিণত হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের আস্থা ভাঙে। জরুরি রোগী এক মিনিট দেরিতে পৌঁছালে যে ক্ষতি হয়, তা কোনো মেডিকেল রিপের ভিজিট দিয়ে পূরণ হয় না।
সম্পাদকীয়
ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধি আসবে—এটা ব্যবসার অংশ। কিন্তু তাদের স্থান হাসপাতালের ইমার্জেন্সি লেন নয়। নির্ধারিত পার্কিং দিতে হবে। হলুদ লাইন টানতে হবে। নিরাপত্তা ও ট্রাফিককে দায়িত্ব দিতে হবে। রোগীর গাড়ি আগে—এই নীতি লিখে দেওয়ার দরকার নেই, কাজে দেখাতে হবে।
বিনীত আহ্বান
দুর্গাপুর উপজেলা প্রশাসন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এবং স্থানীয় পুলিশের প্রতি: আজই সরেজমিন পরিদর্শন করুন। গেটের সামনে নিষিদ্ধ পার্কিং বলবৎ করুন। অভিযোগ তদন্ত করুন। হাসপাতাল যেন সিন্ডিকেটের শোরুমে না পরিণত হয়।
মাননীয় ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল মহোদয়ের প্রতি: আপনি এই মাটির মানুষ। দুর্গাপুর-কলমাকান্দা আপনার এলাকা। এলাকাবাসীর বিনীত অনুরোধ—এ বিষয়টি সৎ সদিচ্ছায় আমলে নিন। তদারকি নিশ্চিত করুন, যাতে এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সিন্ডিকেটমুক্ত থাকে এবং রোগীর পথ সবসময় খোলা থাকে।
রোগীর রাস্তা খালি রাখুন। হাসপাতাল মানুষের—কারো পার্কিং লট নয়।
রিভার্স নিউজ ডেস্ক · দুর্গাপুর প্রতিনিধি · ২৮ আগস্ট ২০২৬





