নেত্রকোনার ইতিহাসে অন্যতম ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: বড় বাজারের কাপড়পট্টিতে লেলিহান শিখা
রিভার্স নিউজ নেত্রকোনা প্রতিনিধি · নেত্রকোণা · ৭ আগস্ট ২০২৬ · ৭ আগস্ট ২০২৬, বিকাল ৪:১৫:০০

নেত্রকোনা জেলা শহরের ব্যস্ততম বড় বাজার এলাকায় গতকাল শুক্রবার রাতে ঘটে গেছে নেত্রকোনার ইতিহাসের অন্যতম ভয়ংকর ও মর্মান্তিক এক অগ্নিকাণ্ড। প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে সূত্রপাত হওয়া এই আগুন মুহূর্তের মধ্যে চারদিকে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে এক বিভীষিকাময় পরিস্থিতির সৃষ্টি করে।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) রাত প্রায় ৯টার দিকে বড় বাজারের কাপড়পট্টি এলাকায় ‘আরিফ সুজ’ নামের একটি জুতার কারখানায় প্রথমে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন পাশের দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। মজুমদার ইলেকট্রনিক্স, ভুঁইয়া প্লাজাসহ অন্তত ২৫টি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে যায়। আগুন বহুতল ভবনের নিচের মার্কেট ও পেছনের কিছু বসতঘরেও ছড়িয়ে পড়ে। যেহেতু শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন, বাজার এলাকায় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতি ছিল। হঠাৎ এই বিপদের কারণে মুহূর্তের মধ্যে চরম আতঙ্ক, ছোটাছুটি এবং আর্তনাদ শুরু হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিট (নেত্রকোনার দুটিসহ বারহাট্টা, আটপাড়া ও পূর্বধলা থেকে) একত্রে অবিরাম কাজ করে। কিছু প্রাথমিক রিপোর্টে সাতটি ইউনিটের কথাও উল্লেখ করা হয়েছিল। আগুনের তীব্রতা ও লেলিহান শিখার বিস্তার এতটাই বেশি ছিল যে, প্রায় দেড় থেকে পৌনে দুই ঘণ্টা চেষ্টা সত্ত্বেও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে সময় লাগে। রাত সাড়ে ১১টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে বলে জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান ও জেলা পুলিশ সুপার মো. তারিকুল ইসলাম নিশ্চিত করেছেন।
চোখের পলকে ব্যবসায়ীদের তিল তিল করে গড়ে তোলা স্বপ্ন আর কষ্টার্জিত পুঁজি চোখের সামনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনও পূর্ণাঙ্গভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। তবে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, মজুমদার ইলেকট্রনিক্স ও আশপাশের দোকানপাটে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সৌভাগ্যক্রমে কোনো প্রাণহানি বা আহতের খবর পাওয়া যায়নি। আগুনের সূত্রপাতের পর আশপাশের দোকান ও বাসাবাড়ি থেকে গ্যাস সিলিন্ডারসহ বিস্ফোরক জাতীয় দ্রব্য দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হয়, যা আরও বড় বিপর্যয় রোধ করেছে।
নেত্রকোনাবাসীর জন্য গতকালের দিনটি এক গভীর শোক ও আতঙ্কের দিন হয়ে রইল। মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা, তিনি যেন সবাইকে নিরাপদে রাখেন এবং এই নজিরবিহীন ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা করেন। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের দ্রুত পুনর্বাসনের জন্য প্রশাসনের কাছে জোর দাবি উঠেছে।
