মুক্তিযুদ্ধ কোনো দলের সম্পত্তি নয়, এটি ছিল পুরো জাতির যুদ্ধ — ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি
রিভার্স নিউজ ডেস্ক রিপোর্ট · ৮ আগস্ট ২০২৬ · ৮ আগস্ট ২০২৬, রাত ৪:০০:০০

ঢাকা সেনানিবাসের কুর্মিটোলা গলফ ক্লাবে গতকাল শুক্রবার (৭ আগস্ট) অনুষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশ লিবারেশন ওয়ার কোর্সেস ফাউন্ডেশন আয়োজিত দ্বিতীয় বাংলাদেশ লিবারেশন ওয়ার কোর্সের ৫৪তম কমিশনিং ও ফেলোশিপ ডে উদযাপন অনুষ্ঠান। দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাস ও চেতনাকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার এই আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহামান্য ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমদ, বীর বিক্রম (অব.)।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আহমেদ আজম খান, এমপি। সম্মানিত অতিথি হিসেবে ছিলেন তিন বাহিনীর প্রধান—সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন এবং নৌবাহিনী প্রধান ভাইস অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম। সামরিক ও বেসামরিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
প্রধান অতিথির ভাষণে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ স্পষ্ট করে বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ কোনো রাজনৈতিক দলের যুদ্ধ ছিল না। এটি ছিল জনতার যুদ্ধ, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার যুদ্ধ এবং মানুষের ভোটাধিকার, মানবিক মর্যাদা ও সম-অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম। তিনি বলেন, জনগণের রায়কে অগ্রাহ্য করে গণতন্ত্রকে পদদলিত করার ফলেই মুক্তিযুদ্ধের সূচনা হয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার পর যারা রাষ্ট্রক্ষমতায় এসেছিলেন, তাদের অনেকেই মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চিত্র জনগণের সামনে তুলে ধরতে চাননি। ফলে স্বাধীনতা যুদ্ধের অসংখ্য ঘটনা, ত্যাগ ও বীরত্বগাঁথা এখনও যথাযথভাবে ইতিহাসে স্থান পায়নি। সেই ইতিহাসকে সঠিকভাবে লিপিবদ্ধ করে জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে।
ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি বলেন, নতুন প্রজন্মকে জানতে হবে কীভাবে দেশ স্বাধীন হয়েছে এবং মুক্তিযোদ্ধাদের স্বপ্ন কী ছিল। তারা যেন সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে কাজ করে এবং একটি সুখী, সমৃদ্ধ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলে। দেশে আর কোনো স্বৈরশাসনের সৃষ্টি হওয়া উচিত নয়। সরকার ভুল করলে জনগণ গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতেই তা সংশোধন করবে, কিন্তু কোনো অবস্থাতেই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে ধ্বংস করা যাবে না।
মুক্তিযুদ্ধকালীন বিভিন্ন ঘটনা তুলে ধরে তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগ ও দেশপ্রেমই ছিল তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। তৎকালীন পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী জনগণের ভোটের প্রতি কোনো সম্মান দেখায়নি। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে এ দেশের মানুষ ছয় দফার ভিত্তিতে আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসনের পক্ষে রায় দিলেও সেই গণরায় উপেক্ষা করা হয়। পরে পাকবাহিনী নিরস্ত্র মানুষের ওপর গণহত্যা চালায়। এমন পরিস্থিতিতে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট ও ইপিআরের বাঙালি সৈনিক ও কর্মকর্তারা বিদ্রোহ ঘোষণা করে প্রতিরোধ যুদ্ধ শুরু করেন।
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের অবদান ও বলিষ্ঠ নেতৃত্বের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিশেষ করে মেজর জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা জাতিকে উদ্দীপ্ত করেছে। মুক্তিযোদ্ধারা কোনো ব্যক্তিগত কৃতিত্ব অর্জনের জন্য যুদ্ধ করেননি, বরং দেশের অস্তিত্ব, মানুষের জীবন এবং মা-বোনের সম্মান রক্ষার জন্য অস্ত্র হাতে নিতে বাধ্য হয়েছিলেন।
অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আহমেদ আজম খান এবং তিন বাহিনীর প্রধানরাও বক্তব্য রাখেন। বাংলাদেশ লিবারেশন ওয়ার কোর্সেস ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে স্বাগত বক্তব্য দেন মেজর এ. মতিন চৌধুরী।
আয়োজকরা মনে করেন, এই অনুষ্ঠান শুধু একটি স্মরণসভা নয়, বরং মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস সংরক্ষণ ও নতুন প্রজন্মের কাছে তা তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
